ফরিদপুরে রাজু হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, ভাইসহ গ্রেপ্তার ৮ 


ফরিদপুর জেলা কোতয়ালী থানার চাঞ্চল্যকর রাজু শেখ (৩৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। মাদক ব্যবসার পাওনা টাকা এবং পারিবারিক কলহের জেরে আপন ছোট ভাই ও সহযোগীরা মিলে রাজুকে কুপিয়ে হত্যা করে।

আজ সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ২টায় ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, নিহত রাজু শেখ মূলত একজন মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। মাদক ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে সহযোগীদের সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এছাড়া রাজু তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে মারধর করায় আপন ছোট ভাই ইব্রাহিম শেখের সাথেও তার চরম শত্রুতা তৈরি হয়। ঘটনার তিন দিন আগে রাজু তার ভাই ইব্রাহিমকে হত্যার চেষ্টা করলে, ইব্রাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে রাজুকে মেরে ফেলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২ মার্চ রাত ৯টা ৩০ মিনিটে কোতয়ালী থানাধীন লক্ষ্মীপুর এলাকায় রাজুকে ওৎ পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা পালিয়ে ঢাকা ও পাবনাসহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৫ মার্চ পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানা এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি হৃদয় (২২) ও মারুফকে (২৫) গ্রেপ্তার করে।

একই দিন বিকেলে ফরিদপুর শহরের স্টেশন বস্তি এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের ছোট ভাই মো. ইব্রাহীম শেখকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যে আজ ভোররাতে হাবেলী গোপালপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৪টি চাপাতি ও ১টি স্টিলের ছোরা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মাদক ও পারিবারিক বিরোধের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৮ জন আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি এবং তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তাদের দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com