ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে ভোটের অঙ্কে সরগরম হয়ে উঠেছে ফরিদপুর১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসন। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলটির প্রার্থী না থাকায় এবারের নির্বাচনী সমীকরণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগসমর্থিত বিপুল ভোটব্যাংক কোন দিকে ঝুঁকবেসেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে তিনজনের মধ্যে। তারা হলেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যা (দাঁড়িপাল্লা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খান (ফুটবল)।
দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরাই জয়ী হয়ে আসছিলেন। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাঠে না থাকায় দলটির বিশাল ভোটব্যাংকই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। এই ভোট যেদিকে যাবে, সেখানেই বড় ব্যবধান তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার ৭০২ জন। এর মধ্যে মধুখালী উপজেলায় ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৪২ জন, বোয়ালমারীতে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৭০ জন এবং আলফাডাঙ্গায় ১ লাখ ৩ হাজার ৭৯০ জন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর সমর্থন তিন উপজেলাতেই কমবেশি রয়েছে। বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বোয়ালমারীর সাতৈর গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় নিজ এলাকায় তাঁর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যাও পিছিয়ে নেই।
মধুখালী উপজেলায় লড়াই আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই উপজেলার কালপোহা গ্রামের বাসিন্দা জামায়াত প্রার্থী ইলিয়াস মোল্যা এবং আশাপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খানউভয়ই শক্তিশালী প্রার্থী হওয়ায় এখানে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি দলীয় প্রভাবের কারণে বিএনপির প্রার্থীও এখানে ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
এই ত্রিমুখী সমীকরণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানকার প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার আওয়ামী লীগসমর্থিত। যেহেতু প্রধান তিন প্রার্থীর কেউই আলফাডাঙ্গার বাসিন্দা নন, তাই এই উপজেলার ভোটারদের মন জয় করতে পারলেই জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের একটি চায়ের দোকানে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা বকুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন,এখানকার ভোটাররা বিএনপি, জামায়াত আর ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে বিভক্ত। তবে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে মনে হচ্ছে।
সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম বাজারে রবিউল ইসলাম বলেন,ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী ভোট পেলেও প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থান থাকবে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই।
সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ফরিদপুর১ আসনে দলটির বিশাল ভোটব্যাংক যেদিকে ঝুঁকবে, শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মালা তার গলাতেই উঠবেএমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।