চরভদ্রাসনে  নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার


ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দিলেও ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সেই দামে গ্রাহকেরা পাচ্ছেন না। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও ১২ কেজির সিলিন্ডার ১১৬-১৬৬ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্যাস বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার বেশি ব্যবহার হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ হতে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১২ কেজিতে ১৪৪ টাকা বাড়িয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১২৮৪ টাকা। তবে সরকার নির্ধারিত এই দামে এলপিজি গ্যাস কোথাও বিক্রি হচ্ছে না।

গতকাল রবিবার উপজেলার বিভিন্ন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়ের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ১১৬-১৬৬ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস। সেখানে কথা হয় মো. শাকিল নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, সরকার ১২ কেজি এলপিজি সিল্ডারের দাম কমিয়ে ১২৮৪ টাকা করেছে। তবে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ১ হাজার ১৪৫০ টাকায়। তাহলে সরকার কী দাম নির্ধারণ করল আর বাড়তি কাদের পকেটে যায়।সদর উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা ডিলার থেকে গ্যাস কিনে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা বিক্রেতা জানান, ডিলাররা সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০-৬০ টাকা বেশি নিচ্ছে। কারণে আমাদেরও একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

উপজেলায় বসুন্ধরা, ওমেরা ও ফ্রেশ গ্যাসের ডিলার রয়েছে। তাদের কাছ থেকে গ্যাস কিনে খুচরা বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। তারাই সিন্ডিকেট করে নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলাররা সত্যতা স্বীকার করে জানান, খুচরা বিক্রেতাদের কাছে গ্যাস পৌঁছে দিতে যে খরচ হয়, তা হিসাব করে বাড়তি কিছু নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো:সোহেল শেখ বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ভোক্তা অধিকার বিরোধী বেআইনী কাজ। অচিরেই আমরা বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা নিব।


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com