বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে হালির হাওরে


সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত হালির হাওরের আসানপুরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে হাওরের বেশ কিছু পাকা বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে। সোমবার রাতে জামালগঞ্জ উপজেলার আসানপুর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত ২১ নম্বর প্রকল্পের বাঁধ ভেঙে এই হাওরে পানি প্রবেশ করতে থাকে। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই হাওরের ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। বাকি ১০ ভাগ ধান উচু এলাকায় থাকায় পানি ঢুকতে ঢুকতে কৃষক কেটে ফেলতে পারবেন।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব জানান, দীর্ঘ ২৫ দিন ধরে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ পানিতে ডুবে থাকায় এবং নদনদীর পানি না কমায় সোমবার রাতে আসানপুর এলাকায় গর্ত হয়ে বাঁধটি ভেঙে যায়। তবে এর আগেই এই হাওরের ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। তিনি জানান, অবশিষ্ট যে অল্প ধান রয়েছে সেগুলো বাঁচানোর জন্য এই পানি আটকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান, হালির হাওরের জামালগঞ্জে ৪ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমির ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। এই হাওরের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অংশে আরো ৪০৫ হেক্টর জমির ধান আবাদ করা হয়েছিল। সেখানেও ৯০ ভাগ কাটা শেষ। এখন উপরের অংশের পাকা ধান হাওরে পানি প্রবেশ করতে করতে কৃষক কেটে তুলতে পারবেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, হাওরে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। কাটা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭০০ হেক্টর। যার গড় ৮০ ভাগ।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব জানান, এই হাওরে আবাদকৃত জমির মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির ধান বাকি রয়ে গেছে। বাকি অবশিষ্ট জমির ধান উচু জায়গায় থাকায় কৃষকরা ২-৩ দিনের মধ্যে কেটে তুলতে পারবেন। তবে পানির চাপ কমাতে জিও ব্যাগ ব্যবহার শুরু হয়েছে।


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com