বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে গতিশীল করতে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তার অনিয়ম-দূর্নীতির বেড়াজালে হুমকির মুখে পড়ছে এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড। লোকমুখে এমন অনিয়ম-দূর্নীতির গুঞ্জন শুনে সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভূক্তভোগিদের সাথে কথা বললে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তার অনেক দূর্নীতির রহস্য সামনে বেরিয়ে আসে।
জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় গত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্রীজ-কালভার্ট সহ গ্রাম উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরিতে সরকারিভাবে ব্যাপক বরাদ্দ পাওয়া গেছে। কিন্তু এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এলজিইডি কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ খাম-খেয়ালীপনা দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাতের পায়তাড়ায় লিপ্ত থাকেন। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে উপজেলার কাটলা ইউনিয়নে হাট-বাজার উন্নয়নে ৪র্থ তলা ভবন নির্মাণের প্রেক্ষাপটে ২য় তলা ভবন নির্মাণের জন্য ২ কোটি ৬৯ লক্ষ ৯ হাজার ৮শ টাকা বরাদ্দ হয়। সেখানে ভবন নির্মানের জন্য হাটে সরকারিভাবে নির্মানকৃত পূর্বের দোকান সেডগুলো অপসারনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেগুলো সরকারিভাবে অকশন বা ডাক দিয়ে অপসারনের নিয়ম থাকলেও, কোন রকম নিয়মের তোয়াক্কা না করেই দায়িত্বরত প্রকৌশলী নিয়ম-নীতি বহির্ভূত সেগুলো ভেঙ্গে দেন এবং এসব সেডের প্রায় ৪০-৫০ হাজার ইট যার আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই থেকে ৩ লক্ষ টাকা। যা সরকারি কোষাগারে জমা করার নিয়ম থাকলেও তা জমা দেওয়া হয়নি।
একইভাবে মুকুন্দপুর ইউনিয়নের কোবার মোড় হতে পলিখাঁপুর রাস্তার কেশবপুর গ্রামের পাশের মাঠে একটি পুরাতন ব্রীজ ভেঙ্গে নতুন ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ ওই পুরাতন ব্রীজ ভাঙ্গার ইট ও রড গুলোর কোন সরকারি ডাক হয়নি এবং সেগুলো বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এভাবে একের পর এক বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারি বহু অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এছাড়াও তাঁর কাছে মোটা অংকের অর্থ ছাড়া পার হয়না কোন ফাইলপত্র এমন অভিযোগেরও শেষ নেই। বিরামপুর পৌর শহরের শিমুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ শেষ হওয়ার পরেও প্রদান করা হয়নি বরাদ্দের অর্থ। চলছে নানান ধরনের তাল-বাহানা। তার নিয়মানুযায়ী বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের যেনতেন কাজ সম্পন্ন করে তাকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে সন্তুষ্টি করতে পারলে ফাইল পাশ করা হয়। আর তাকে খুশি করতে না পারলে ফাইল ড্রয়ারে আটকা পড়ে যায়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি আজ নয় কাল, এখন নয় তখন এরুপ অজুহাতে সাংবাদিকদের পাশ কাটিয়ে যেতেন। এক পর্যায়ে তার সাথে সাক্ষাত হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে বিভিন্ন কাজের অকশন বা ডাকের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কোন উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এমনকি করোনার অজুহাত দেখিয়ে কর্মকর্তারা ছুটিতে আছেন, তাদের কাছে ফাইলগুলো আছে, তারা আসলে দেখাবো, এসব বলে কাল ক্ষেপন করতে থাকেন।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের কোন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী দূর্নীতি করে শেখ হাসিনার উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন