প্রায় ছয় মাস পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকার পরে মুক্ত হয়ে ফের খাবার সংকটে পড়েছে বিরল প্রজাতির ১২টি শকুন। গত (৫এপ্রিল) রোববার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা এসব শকুন। মুক্ত আকাশে ছাড়া পেয়েও পাখিগুলো অনিশ্চয়তা ভুগছে। একটুকরো খাবার যোগারে ব্যর্থ হচ্ছে পরিযায়ী এই পাখিগুলো ।
কিছুদুর গিয়ে আবার পরিচর্যা কেন্দ্রে ফিরে আসছে তারা। দুরে যায় না এই পাখিগুলো। সেখানেই ঘুরা-ফেরা করছে ।
পরিচর্যা কেন্দ্রের কর্মী বেলাল হোসেন বলেন, ”কোয়ারেন্টাইন” মুক্ত হলেও তাকে ছেড়ে যাচ্ছে না অভুক্ত পাখিগুলো । তিনি বলেন আমি একজন দিনমজুর কী করে তাদের খাওয়াই এই বলে চোখের পানি ছেড়ে দেন । পাখি প্রেমিক রমেশ চন্দ্র রায় বেলালের চোখের পানি দেখে তিনিও কেঁদে ফেলেন ।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. হেলাল বলেন , পাখি গুলো কয়েকদিন ধরে খাবারের জন্য ছটফট করছে । কিন্তু তাদের কে দেবে খাবার ! তিনি আরও বলেন খাবারের জন্য ছুটে এসেছিল, ফের খাবারের সংকটেই পড়ল অজানা দেশের এই পাখিগুলো ।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন বলেন প্রাণীর মরদেহ খেয়ে শকুন জীবন ধারণ করে । কিন্তু বৈশ্বিক রীতির পরিবর্তনে এই প্রাণী গুলো খাদ্য সংকটে পড়েছে।
উল্লেখ্য গত বছর ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, গাইবান্ধা সহ বিভিন্ন স্থান থেকে শকুনগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত বিলুপ্ত প্রায় এই পাখিগুলোকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার জাতীয় উদ্যান ” সিংড়া ফরেস্টের” শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা শকুনকে সুস্থ করার জন্য দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় উদ্যান সিংড়া ফরেস্টে গড়ে তোলা হয়েছে একমাত্র দেশের এই পরিচর্যা কেন্দ্রটি। চার বছর আগে বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএনের উদ্যোগে চালু করা হয় শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র। এখানে দীর্ঘ পরিচর্যায় সুস্থ করার পর সময় মতো তাদের প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয়।