শীত বিদায় নিয়ে বসন্ত শেষ হতে আর কয়েকদিন। বসন্তকালেও শীতের প্রভাব কাটেনি এখনও ঠাকুরগাঁওয়ে। চৈত্রের এই দিনে মিনিট দুয়েক রোদে দাড়াঁলে বা হাঁটলইে শরীর থেকে ঘাম ঝরতো। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম। এখনও শীত ফুরায়নি। দিনে তাপ বাড়লেও সন্ধ্যা নামতেই শীত অনুভুত হয়। রাতে কাঁথা কম্বল জড়িয়ে ঘুমাতে যায় মানুষ ।
চিকিৎসকরা বলছেন, তাপমাত্রার এই আচমকা তার তম্যের সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না শরীর । এতে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইউমিনিটি কমছে। ফাঁক গলেই হামলা চালাচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটরেরিয়া। শ্বাসনালীর সংক্রমণে কাবু হচ্ছে মানুষ। এর ফলে দেখা যাচ্ছে ঘরে ঘরে মানুষ জন সর্দি-কাশি জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে।
সদর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের তৃপ্তি রানী (১৮) বলেন ঠান্ডা গরমের কারণে তিনি সর্দি-কাঁশিতে ভুগছেন। একই কথা জানালেন বাবুল হোসেন। তিনি বলেন তার জ্বরের কথা শোনে চিকিৎসকরা ভয় পেয়েছিলেন। তাকে বাড়িতে থেকে প্যারাসিটামল, এজোথ্রামাইসিন খেতে বলেছেন। অবশ্য তিনি এখন সুস্থ। পীরগঞ্জ উপজেলার গুয়াগাঁ গ্রামের বুলবুল হোসেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বর ,সর্দি-কাশির চিকিৎসা দেয়ার ভয়ে ডাক্তাররা এড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন রোগির সংখ্যা কমে গেছে। একই চিত্র অন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। হাসপাতাল গুলোতে এখন কুকুর বিড়ালের আড্ডা খানা। রোগি নেই , তাই বিছানায় বিড়াল আরাম করছে। রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম প্রকাশের শর্তে এক ওয়ার্ড বয় জানান, জ্বর, সর্দি-কাঁশির রোগিদের চিকিৎসা দিতে ভয় পাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
তবে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফিরোজ এটি সঠিক নয় বলে দাবি করে বলেন এখানে এ সব রোগিদের চিকিৎসার আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল বলেন, হাসপাতালে আউট ডোরে প্রতিদিন সর্দি-কাশি -জ্বরের অনেক রোগি আসে, তাদের চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ওই সব রোগিদের করোনা ভাইরাসের লক্ষণ আছে কিনা তা’ নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভর্তি যোগ্য রোগিদের সাধারণ রোগি থেকে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষেজ্ঞন ডা. তোজাম্মেল হক বলেন, এ পর্যন্ত ৪২ জনের নমুনা নিয়ে আইইডিসিআরে পাঠানো হয় । তবে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর কাউরো শরীরে করোনা ভাইরাস নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট গবেষনাগার।
মেডিসিন বিশেষেজ্ঞন ডা. তোজাম্মেল হক আরও বলেন, ” এসি ফ্রিজের মতো” শরীরেও থাকে র্থামোস্ট্যাট। সবসময়ে তা শরীরের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারনেহাইটে ধরে রাখতে চায়। মুশকিল হলো, আচমকা বাইরের তাপমাত্রার বাড়াবাড়ির বদল হলে শরীরের র্থামোস্ট্যাট যথাযথ কাজ করে না। তখনই ইমনিউনিিটি তার র্কতব্যে গাফলতি করে ফেলে। অতিসক্রিয় হয়ে ওঠে (তখন অ্যার্লাজরি শিকার হয় শরীর) অথবা সক্রিয়তা কমে যায় (তখন জীবাণু সংক্রমণরে শিকার হয় শরীর)। এ দিকে বায়ুদূষণ আজকাল যেহেতু এমনতিইে শরীরকে কাবু করে রখেছে, তাই সামান্য হামলাতেই ভেঙ্গে পড়ছে রোগ প্রতিরোধের দেয়াল মানুষের।
ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহফুজার রহমান সরকার বলেন , চিকিৎসকরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।