ঝিনাইদহে দিনভর অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ


ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে উপজেলার সাতব্রিজ বাজারে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসন দিনভর অভিযান পরিচালনা করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিকে সেচ প্রকল্পের রামনগর সাতব্রিজ সেকসন অফিস ঘিরে আলমডাঙ্গা প্রধান সেচ খালের চতুর্দিকে শতাধিক বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, আবাসিক, ক্লাবসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠে।

আজ হতে ৪২ বছর পূর্ব থেকে দিনে দিনে পানি উন্নয়নের জায়গা দখল করে এসকল অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

তাহেরহুদা, জোড়াদাহ এবং ফলসী ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের লোকজন এ সকল বানিজ্যক প্রতিষ্ঠানে ফার্মাসী, ইলেট্রনিক, কম্পিউটার, মুদি, ভূমি মাল, সার, সিমেন্ট, রড, গবাদি, ফিসারী ও পোল্টিফিড, ট্রেইলার, ভাংড়ী, ফল, খড়ি ও স্যেনেটারী ব্যবসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সরকারী নদী-খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা প্রদান করেন। এ কর্মসূচির অংশ হিসাবে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমে জেলা সদর উচ্ছেদ অফিযান শুরু করে।

পরে হরিণাকুণ্ডে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা নাফিস সুলতানা, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জিন্নাতুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অনিমেষ বিশ্বাসের তত্বাবধানে দিনভর সাতব্রিজ বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

ইতিপূর্বে পানি উন্নোয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিজস্ব সার্ভেয়ার দ্বারা মাপ সম্পন্ন করে সীমানা চিহ্নিত করে। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ মাইকিং করে উক্ত বাজারের ব্যবসায়ীদের মালামালসহ তাদের নির্মিত স্থাপনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। এই আহবানে সাড়াদিয়ে ৯০শতাংশ ব্যাবসায়ী তাদের মালামালসহ স্থাপনা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেয়।

বাজার সংলগ্ন আকবর টাওয়ারের সামনে স্থাপিত সুপার মার্কেটটি ভাঙ্গার মধ্যদিয়ে উচ্ছেদ অভিযানের সূচনা হয়। মার্কেটসহ আকবর টাওয়ার নামক বহুতল ভবনের একটি অংশ ভাঙ্গার সময় শতশত নারী পুরুষ বাজার সংলগ্ন এলাকাতে ভিড় জমায়।

এ সময় ওয়াপদা ক্যাম্পাসে জ্বালানী খড়ি ও স্যানেটারী সামগ্রি রাখার দায়ে এবং সরকারি কাজে বাঁধা দানের অপরাধে মালিকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একশত টাকা জরিমানা ও তিনদিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন উচ্ছেদ অভিযানে তত্বাবধানকারী নির্বাহী ম্যাজেষ্ট্রেট জিন্নাতুল ইসলাম।

জোড়াদাহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জানান, বাজারটিতে তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের জনসাধারণের প্রায় দেড় শতাধিক বানিজ্যিক এবং আবাসিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে।

বাজার কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দীন মেম্বর বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ব্যাবসায়িদের সরকার পূর্ণাবাসনের উদ্দ্যোগ নিলে কিছুটা হলেও তাঁরা পরিবার পরিজন নিয়ে দুমুঠো ডালভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানার উদ্দীন বলেন, উচ্ছেদকৃত ব্যবসায়িদের পূর্ণাবাসনা করা না হলে এলাকাটিতে হাহাকার বিরাজ করবে।

সচেতন নাগরিক সমাজের অভিমত, সাতব্রীজ বাজারের জিকে প্রধান সেচখালের উপর নির্মিত সঙ্কীর্ন ব্রীজটি সোজা করে প্রসস্থ আকারে নির্মান করার উপযুক্ত সময়। এর ফলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। সেই সাথে জিকে সেচখালের অপ্রয়োজনীয় নিরাপদ অংশে সরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মান করে পূর্বের ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপযুক্ত মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হলে এলাকাবাসি উপকৃত হবে বলে তারা মনে করেন।

তাদের আরও অভিমত সাতব্রীজ বাজারটি তিনটি জেলার জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানে এক সময় চোরাচালানীসহ নানা অনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়। কিন্তু নানা বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় বাজার সংলগ্ন এলাকাতে সুস্থ্য স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করতে থাকে। এ স্বাভাবিক অবস্থা ধরে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দা নাফিস সুলতানা জানান, যারা সরকারী নদী-খাল দখলকরে অবৈধভাবে মৎস্যচাষ করছে অবিলম্বে সে সকল অবৈধ মৎস্য চাষিদেরকে উচ্ছেদ করা হবে বলে।


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com