ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজে র‌্যাগিং, কলেজ ভাংচুর


ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজে র‌্যাগিং এর ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। আর সেই তদন্ত কমিটির কার্যক্রম বন্ধ করতে কলেজ ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে।বৃহস্পতিবার সকালে তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করতে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে কলেজ লাইব্রেরী সহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর করা হয়েছে।

ভেটেরিনারি কলেজে অধ্যক্ষ একটি লিখিত অভিযোগে বলেন, গত ৩ জানুয়ারীতে ২০১৯-২০২০ সেশনের ৭ম ব্যাচের তিন জন শিক্ষার্থীকে বয়েজ হলের ৩১৪ নং কক্ষে নিয়ে র‌্যাগিং এর নামে অমানুষিক নির্যাতন করে। পরে তারা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ৪ ফেব্রুয়ারি কলেজের শিক্ষকদের মধ্য থেকে৫ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।তাদেরকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় তদন্ত কার্যক্রম। বৃহস্পাতিবার সকালে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে সকাল ৯টা থেকে একাডেমিক ভবনের সামনে সমবেত হয়ে ২০১৩-২০১৪ সেশনের শিক্ষার্থী লুবান মাহফুজ মিশুক এর নেতুত্বে বেশ কিছু শিক্ষার্থী শ্লোগান দিতে দিতে আমার কক্ষে প্রবেশ করে।

এর পর শিক্ষার্থীরা তদন্ত কমিটির সদস্যবৃন্দসহ উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষক বৃন্দকে উদ্দেশ্যে ঔদ্ধত্ত্বপূর্ণ আচরণ করতে থাকে এবং চলমান তদন্ত কর্মক্রম বন্ধ করাসহ তদন্ত কমিটির শিক্ষকবৃন্দকে এক ঘন্টার মধ্যে কলেজ থেকে বহিস্কারের দাবি করে এবং দাবি মানা না হলে ৭ ফেব্রুয়ারির নবীন বরণ অনুষ্ঠান বয়কটের হুমকি প্রদান করেন।

এ সময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন রকম হুমকি প্রদান করে। এবং বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দিতে রুম থেকে বের হয়ে যায। বের হয়ে যাবার সময় ২য় তলার করিডোর নীচ তলার লাইব্রেরীসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর চালায়। পুলিশ কে অবহতি করা হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মিশুক জানান, বঙ্গবন্ধু আদর্শ বিরোধী একজন শিক্ষক ভেটিরিনারি কলেজ ছাত্রলীগকে কটাক্ষ করার কারনে আমরা বিক্ষোভ মিছিল করি। পরে অধ্যক্ষের কার্যলয়ে গিয়ে সেই শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি এবং কলেজ থেকে তার বহিস্কার দাবি করেছি। অধ্যক্ষ সাহেব আমাদের আসস্থ করেছেন। তিনি বষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

অধ্যক্ষ ডা. মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, আমরা র‌্যাগিংয়ের ব্যাপারে আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছি। তার পারও গত ৩ ফেব্রুয়ারি আমার নিকট র‌্যাগিং এর ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। সেই অভিযোগকে বিবেচনায় নিয়ে ৫সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এরিমধ্যে কিছু শিক্ষার্থীরা এই তদন্ত কমিটির কার্যক্রম বন্ধ করতে সমবেত হয়ে আমার কক্ষে আসে। আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করলেও তারা আমার কোন কথায় কর্ণপাত করেনি। বরং আমার কক্ষ হতে বিভিন্ন প্রকার শ্লোগান দিয়ে বের হয়ে করিডোরে ও লাইব্রেরির বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর করেন এবং আমার অফিসের দিকেও তারা ইট ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

ঝিনাইহদ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, আমরা জানতে পারি ভেটেরিনারি কলেজের অধ্যক্ষের কাছে র‌্যাগিং এর একটি অভিযোগ দিয়েছিল। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন তিনি। তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান অবস্থায় এর মধ্যে কিছু ছেলেরা কমিটি মানবে না বলে অধ্যক্ষের কাছে জানান। তাদের দাবি না মানায় তারা উত্তেজিত হয়ে ভাংচুর চালায়। পরে সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর পড়ে থাকতে দেখা গেছে।


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com