ধোনিদের সরকারি চাকুরে মনে হয় শেবাগের

  • অনলাইন
  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২০ ১০:০৮:০০

এবারের আইপিএলে সবচেয়ে বাজে দল কি চেন্নাই সুপার কিংস? না, সবচেয়ে বাজে দলের নাম খুঁজতে গেলে অবশ্যম্ভাবীভাবেই কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের নামই চলে আসে সবার মাথায়। ঐতিহ্যগতভাবে আইপিএলে সবচেয়ে ব্যর্থ দলের মধ্যে থাকা দলটি এ মৌসুমেও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বাজে অবস্থানে আছে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকে সমালোচনার তির একটু বেশি ছুটছে চেন্নাইয়ের দিকেই।

আইপিএলে পাঞ্জাবের উল্টো ইতিহাস চেন্নাইয়ের। তিনবার শিরোপা জিতেছে। সর্বোচ্চ আটটি ফাইনাল খেলেছে। এবারও পয়েন্ট তালিকায় কখনো শেষে অবস্থান করেনি। কিন্তু মহেন্দ্র সিং ধোনির দল এবার প্রথম থেকেই সমালোচনার মুখে। প্রবল দাপটে ১০ উইকেটে এক ম্যাচ জিতেছে তারা, কিন্তু সে ম্যাচের পরও দলটির ভেতরে থাকা নানা খুঁত বেরিয়ে আসছে। এর পেছনে দলের খেলোয়াড়দের মানসিকতার দায় দেখছেন বীরেন্দর শেবাগ। তাঁর ধারণা, দলটির খেলোয়াড়দের অনেকেই সরকারি চাকরি ধরে নিয়েছেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচ ছিল চেন্নাইয়ের। সে ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থায় থেকেও হেরেছে দলটি। রান রেট বেড়ে যাচ্ছে এমন অবস্থাতেও কেদার যাদবের রক্ষণাত্মক খেলা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সমালোচনায় মেতেছেন সবাই। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন ডোয়াইন ব্রাভোর মতো এক অলরাউন্ডার থাকতে কেন তাঁকে কেদারের পরে নামানো হলো। ব্রাভো যেখানে দ্রুত রান তুলতে অভ্যস্ত, কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে নিয়মিত ম্যাচ জেতাতে পারেন; সেখানে কেদারের ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় অলরাউন্ডারের খেলাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে।

ক্রিকবাজের সঙ্গে কথোপকথনে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেবাগ, ‘এ রান তাড়া করা উচিত ছিল। কিন্তু কেদার যাদব ও রবীন্দ্র জাদেজা যে একের পর এক ডট বল খেলেছে, সেটা দলের কোনো উপকারে আসেনি। আমার মনে হয়, চেন্নাই সুপার কিংসের কিছু ব্যাটসম্যান এ দলকে সরকারি চাকরি ধরে নিয়েছে। যেখানে পারফর্ম করেন বা নাই করেন, তারা জানে শেষ পর্যন্ত ওরা বেতন এমনিতেও পাবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার ও ফেসবুকে বরাবরই খেলা নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্য করেন শেবাগ। কিছুদিন আগে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের এক ম্যাচে আম্পায়ারের ভুলে দলটি হেরে যায়। সেদিন ম্যাচসেরার পুরস্কার আম্পায়ারকে দিতে বলেছিলেন শেবাগ। চেন্নাইয়ের ম্যাচ শেষেও প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সাবেক ব্যাটসম্যান। ফেসবুকে তাঁর সিরিজ ‘বীরু কী বৈঠক’ এর সর্বশেষ পর্বে বলেছেন ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেওয়ায় কেদার যাদবকেই ম্যাচসেরা ঘোষণা করা উচিত ছিল। সেদিন কেদার যাদব যখন নেমেছেন, চেন্নাইয়ের ২১ বলে ৩৯ রান দরকার ছিল। ১২ বলে ৭ রান করেছিলেন কেদার। শেবাগের চোখে এই ব্যাটসম্যান ‘অপ্রয়োজনীয় অলংকার’ দলটির।

এবারের আইপিএলটা একদম ভালো যাচ্ছে না চেন্নাইয়ের। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছার পর দল সংশ্লিষ্ট ১২ জনের করোনা ধরা পরেছিল। দলের দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় সুরেশ রায়না ও হরভজন টুর্নামেন্ট থেকে সরে গেছেন। ৬ ম্যাচে মাত্র দুই জয় পেয়েছে দলটি। আগামী ১০ অক্টোবর পাঁচে থাকা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সঙ্গে ম্যাচ। সে ম্যাচে নিশ্চয় শেবাগের সমালোচনার জবাব দিতে নামবেন কেদার!

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য