নির্বাচনে জরুরি সেবা টিম ৯৯৯ যুক্ত করার প্রস্তাব

  • অনলাইন
  • শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৩ ০১:১১:০০
  • কপি লিঙ্ক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ টিমকে সংযুক্ত করার প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। প্রস্তাবে সব ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত তথ্যকেন্দ্রের সঙ্গে ৯৯৯ টিমকে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে করণীয় নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা বৈঠকে এই প্রস্তাব করা হয়।

জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কোস্ট গার্ড, ডিজিএফআই, এনএসআই, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, এসবির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি এবং জননিরাপত্তা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠকে উপস্থিত জননিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চায়। এ জন্য ৯৯৯ টিমকেও সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ জরুরি পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনা বা অপরাধের শিকার ব্যক্তিকে সেবা দিচ্ছে ৯৯৯ টিম। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেবা দেওয়ার জন্য ৯৯৯ টিমকে সংযুক্ত করতে পুলিশ বিভাগকে প্রস্তাব করা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন এ বিষয়ে টিম গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। পুলিশ বিভাগ বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মো. কামরুল আহসান বলেন, এটি কারিগরি বিষয়। তাই নির্বাচনে ৯৯৯ সেবা চালু করা যায় কি না তা নিয়ে ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

এ জন্য অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য প্রয়োজন হবে কি না—জানতে চাইলে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বলেন, যখন হবে তখন বিস্তারিত জানানো হবে। হয়তো আগামী সপ্তাহে কোনো একটা সিদ্ধান্ত হতে পারে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হবে। পরিপত্রে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি এবং গ্রাম পুলিশ সদস্য মোতায়েনের সংখ্যা উল্লেখ থাকবে।

এ ছাড়া মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, ভোটগ্রহণের আগে ও পরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা, আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং নির্বাচনী দ্রব্যাদি ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার নিরাপত্তা পরিকল্পনাসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ থাকবে এই পরিপত্রে।  

এ বিষয়ে জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (আনসার ও সীমান্ত অনুবিভাগ) মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কিভাবে কাজ করবে সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করে একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

৯৯৯ টিমের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, ৯৯৯ ব্যবহার করা সম্ভব কি না, এ জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা আছে কি না সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ২০১৫ সালের অক্টোবরে জাতীয় পর্যায়ে সর্বস্তরের জনগণের জন্য মোবাইল ফোনভিত্তিক হেল্প ডেস্ক বাস্তবায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। মানুষের জন্য জরুরি সেবা অর্থাৎ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুল্যান্স সেবা দ্রুত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কাঠামো স্থাপন ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য