রেমিট্যান্স সংকট উত্তরণে ডিজিটাইজেশন সমাধান

  • ডেস্ক
  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২০ ১২:১৮:০০

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ২০২০ সালে বিশ্বে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমবে প্রায় ২০ শতাংশ, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ পতন। মজুরি কমার পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ায় রেমিট্যান্সে এই ভাটা আসবে বলে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়। প্রতিবেদনে রেমিট্যান্স সরবরাহ বাড়াতে অর্থ পাঠানো ও গ্রহণকে আরো সহজ ও সাশ্রয়ী করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে রেমিট্যান্স ১৯.৭ শতাংশ কমে হবে ৪৪৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স ২২ শতাংশ কমে হবে ১০৯ বিলিয়ন ডলার। যদিও ২০১৯ সালে এই অঞ্চলে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি আসে ৬.১ শতাংশ। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমবে দক্ষিণ এশিয়ায়। এ ছাড়া তেলের দাম কমায় উপসাগরীয় দেশগুলো ও মালয়েশিয়া থেকেও রেমিট্যান্স কমবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বে গড়ে ২০০ ডলার রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ হয় ৬.৮ শতাংশ, যা আগের বছরের চেয়ে কিছুটা কম। সবচেয়ে বেশি খরচ পড়ে সাব-সাহারা আফ্রিকায় প্রায় ৯ শতাংশ। রেমিট্যান্স পাঠাতে সবচেয়ে কম খরচ দক্ষিণ এশিয়ায়। এই অঞ্চলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ হয় ৪.৯৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে প্রধান রচয়িতা দিলিপ রাথো বলেন, রেমিট্যান্স পাঠানো ও গ্রহণ দুটিই যাতে আরো সহজ হয় সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে প্রবাসী আয়নির্ভর পরিবারগুলো উপকৃত হবে।

এদিকে রেমিট্যান্স সংকট উত্তরণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে ডিজিটাল সমাধানের পরামর্শ দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ)। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, রেমিট্যান্স সেবা প্রদানে আধুনিকতা এলেও এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে এজেন্টের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ। কিন্তু মহামারিতে এটি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেই বেশি রেমিট্যান্স ব্যাহত হয়েছে। এই দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সমাধান গ্রহণ করার তাগিদ দেওয়া হয়। যাতে রেমিট্যান্স লেনদেনে প্রবাসী শ্রমিক ও তাঁর পরিবারের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।

ডিজিটাল সমাধানে সবচেয়ে সহজ উপায় মোবাইল ফোন অ্যাপ, কিন্তু এটি সরবরাহকারীর একার পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও রেমিট্যান্স সেবা প্রদানকারীর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। যাতে অভিবাসী ও তাঁর পরিবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ডিজিটাল সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। ব্যাংক এবং মোবাইল মানি সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করতে হবে ইলেকট্রনিকের ক্ষেত্রে ই-কেওয়াইসি বাস্তবায়নে। মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে, যা মোবাইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। এর পাশাপাশি রেমিট্যান্স মোবাইল ওয়ালেট থেকে ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ফি ছাড় দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য