দিহানের ডোপ টেস্ট করতে চায় পুলিশ

  • অনলাইন
  • বুধবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২১ ১১:৫৭:০০

রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি ফারদীন ইফতেখার দিহানের ডোপ টেস্ট করতে চায় পুলিশ। সেজন্য আদালতের অনুমতি প্রয়োজন। সেই অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদনও করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

আজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল হাসান এনটিভি অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কলাবাগান থানা পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার আগে দিহান মাকদসেবন করতে পারেন বলে তাদের ধারণা। এ ছাড়া ওই ছাত্রীকে চেতনানাশক খাওয়ানো হতে পারে বলেও তাদের মত। তবে ওই সূত্রটি নাম প্রকাশ করে কথা বলতে চাননি।

সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান বলেন, ‘আমরা আদালতের কাছে ডোপ টেস্টের অনুমতি প্রার্থনা করেছি। আশা করছি, আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ডোপ টেস্টের অনুমতি দিয়ে দেবেন। অনুমতি পাওয়ার পর আমরা দিহানের ডোপ টেস্ট করব। সেখানে বেরিয়ে আসবে তিনি মাদকাসক্ত কি না। এ ছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে আমরা জানতে পারব, ধর্ষণের আগে ওই ছাত্রীকে চেতনানাশক খাওয়ানো হয়েছিল কিনা।’

এদিকে আসামি ফারদীন ইফতেখার দিহানের বাসার দারোয়ান দুলাল আজ মামলার সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন দুলাল। সাক্ষ্য শেষে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

জবানবন্দি দেওয়ার আগে কলাবাগান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ঠাকুর দাস আজ দুপুরে বলেছিলেন, ‘দুলালকে আদালতে নেওয়া হয়েছে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য। দুলালকে গতকাল সোমবার পুলিশ হেফাজতে নিয়ে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি যতটুকু জানেন, আমরা ততটুকু জানার চেষ্টা করেছি। দুলাল এই মামলার আসামি নন। তাকে সকালে আদালতে নেওয়া হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দুপুরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুলালের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলেন, ‘দুলাল আমাদের বলেছেন, দিহান ওই ছাত্রীকে বাসায় নিয়ে যান। দিহান নিয়ে যাচ্ছে বলে দারোয়ান তাকে কিছু বলেননি। এর এক ঘণ্টা পর দিহান ইন্টারকমে যোগাযোগ করে দারোয়ানকে উপরে উঠতে বলেন। উপরে উঠে দারোয়ান দেখেন, মেয়েটিকে সোফায় শুইয়ে রাখা হয়েছে। ওই সময় সোফায় রক্ত লেগে ছিল। পরে তারা বাসা থেকে নিচে নামেন। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়িতে তুলে দেন দুলাল। তারপর তিনি ওই বাসায় প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে ঘটনা বোঝার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি বাসা থেকে পালিয়ে যান। দিহান আমাদেরকে বলেছেন, ওই মেয়ে একা একা বাসায় উঠেছিলেন। আর দারোয়ান বলেছেন, তারা দুজনই একসঙ্গে বাসায় উঠেছিলেন।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য