রামেক হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া সেই নবজাতক উদ্ধার

  • অনলাইন
  • শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১ ০৫:৫৪:০০

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়ার ২৭ ঘণ্টা পর নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে নগরীর মোন্নাফের মোড় পল্টুর বস্তি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এসময় চুরি করে নিয়ে যাওয়া নারী ও তার স্বামীকে আটক করা হয়েছে। 

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার একটি দল এ অভিযান চালায়। আটক নারীর নাম মৌসুমি বেগম (২৩)। তার স্বামীর নাম সজিব (২৫)। তারা নগরের বোয়ালিয়া থানার রানীনগর পল্টু কমিশনারের বস্তির বাসিন্দা। নবজাতকসহ এদের আটকের পর বেলা ৩টায় আরএমপির ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।
 
এ সময় তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা জানলাম যে বাচ্চা চুরি করা নারী নিঃসন্তান। আট বছর আগে বিয়ে হলেও তার সন্তান হয়নি। তবে তিনি কোনও বাচ্চা চোর চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না তা আমরা খতিয়ে দেখব। বাচ্চাটিকে ইতোমধ্যে তার নানা-নানির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বাচ্চা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অপরাধে আটক দুইজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিবি কার্যালয়ে এই কন্যা শিশুর নানি তাপসী রবিদাস বলেন, বাচ্চাটার নাম রাখা হয়েছে লক্ষী। তারা বাচ্চাটিকে ফিরে পেয়ে খুব খুশি। রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেই জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন বাচ্চাটির বাবা মাসুম রবিদাস। তিনি বলেন, আমি মানুষ দেখলেই চিনতে পারি। এই নারীকে (মৌসুমি) আমি হাসপাতালের সামনে মাঝে মাঝে দেখেছি। চুরি হয়ে যাওয়া বাচ্চা ফিরে পাওয়ায় তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মাসুম রবিদাস নগরীর আইডি বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রসব বেদনা নিয়ে গত বুধবার তার স্ত্রী কমলী রবিদাস শিল্পীকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সকালে মৌসুমি তার কাছে গিয়ে শিশুটিকে আদর করেন। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সকালে তিনি আবার যান। তখন বাচ্চাকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন কমলী। এই ফাঁকে ওই নারী তার সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান। বাচ্চা না পেয়ে তিনি পাশেই ঘুমিয়ে থাকা তার মাসিকে ডাকেন। এসময় মাসি ওয়ার্ডের বাইরে গিয়ে আর তাকে পাননি। এর ২৭ ঘণ্টা পর বাচ্চাটিকে উদ্ধার করল পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য