গাইবান্ধায় বানভাসীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই 

  • অনলাইন
  • শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০ ০১:২৪:০০

বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে গাইবান্ধার বন্যা দুর্গতদের ঈদের আনন্দ। বন্যার দুর্যোগ মোকাবেলা করাই এখন তাদের পক্ষে অসম্ভব। হাতে কাজ নেই, নেই টাকা। বন্যা থমকে দিয়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন। এমন বাস্তবতায় ঈদে নতুন জামাকাপড় সেমাই মাংস জোটানো তো দুরের কথা পেট পুরে একবেলা ভাত জোটানো তাদের কাজে এখন স্বপনের মতো।
 
গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পুর্বে ব্রহ্মপুত্র নদী। মাসব্যাপী ২য় দফা বন্যায় গাইবান্ধা নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চার উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানি তে ডুবে গেছে। মানুষ যে যেভাবে পেরেছে সেভাই নিজের সম্বল ও নিজের জানমাল রক্ষা করেছে। কেউ পানিবন্দি আর কেউ নদী পার হয়ে বাঁধ বা উচুস্থানে গবাদী পশু নিয়ে গাদাগাদী করে আশ্রয় নিয়েছে। 

এমন অবস্থায় নানা সংকট ও সমস্যার মধ্য দিয়ে দিনপার করছেন তারা। রয়েছে খাবার, জ্বালালী, গো-খাদ্য ,খাবার পানির সংকট। হারিয়েছে ঘরবাড়ি, ফসল, ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলিণ হয়েছে অনেক এলাকা। পানি বন্দি অন্তত দেড় লক্ষাধিক পরিবার। চরাঞ্চল ,কঞ্চিপাড়া, কামারজানি, মোল্লারচর, কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা সহ ১ শ ৫৬ টি চরের পানিবন্দি মানুষের এবারের ঈদ তো দুরের কথা ভাত পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ঈদের দিন উপলক্ষে সেমাই বা মাংশ কেনার মতো ক্ষমতা নেই অধিকাংশ পরিবারের ।  

বানভাসী রোকেয়া বেগম ও আয়তন নেতা আক্ষেপ করে বলেন ,কোরবানী দেয়ার মতো সামর্থবান মানুষ নেই ।
ফুলছড়ি উপজেলার পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ জানান ,আমরা হয়তো সামান্ন চাল দেই বানভাসীদের মধ্যে কি তাদের চাহিদা মেটাতে পারিনা। কারণ তারা নদী ভাঙ্গা ও দীর্ঘ মাস খানেক থেকে পানিবন্দি। তাদের দুর্দশা চোখে না দেখলে বোঝা যাবেনা। বানভাসী এলাকার শিশুদের জন্য নতুন কাপড়ের কথা ভাবলেও বড়দের মধ্যে ঈদের কোন আমেজ নেই। বন্যা সামলাতেই তারা ব্যস্ত। এবার হয়তো কারো ভাগ্যে জুটবেনা নতুন কাপড় ও এক বেলা ভালো খাবার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য