ফরিদপুরে স্বামীর বাড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ 

  • ফরিদপুর প্রতিনিধি :
  • মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৪:১২:০০
  • কপি লিঙ্ক

দুজনের গভীর প্রেম প্রনয়। অতঃপর কেউ কাউকে ছাড়া বাঁচবে না। অসহায় হয়ে পড়ে দুটো পরিবারের লোকজন। অবশেষে বাধ্য হয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক যেনেও সুমি ও শাকিলের চার হাত এক করে দেন গ্রামের লোকজন। কিন্তু বিধি বাম। বিয়ের মেহেদী শুকিয়ে যেতে না যেতেই স্বামী পরিবারের লোকজন যৌতুকসহ বিভিন্ন দাবিতে নির্যাতন শুরু করে দেন সুমির উপর। শুধুই কি তাই! স্বামী ইতালি প্রবাসী হতে না হতেই শুরু করেন অন্য নারীর সাথে পরকীয়া। এ নিয়ে ঝগড়া বিবাদের জেরধরে স্বামীর ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে নিজের বাবার বাড়িতে এসে আত্মহত্যা করেছেন সুমি নামের ওই গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণকান্দা গঙ্গাধরদী গ্রামে।
গৃহবধূ সুমি আক্তার জান্নাত(১৯) একই গ্রামের সাবেক সেনাবাহিনীর সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলামের কন্যা এবং ইটালি প্রবাসি শাকিল মাতুব্বরের স্ত্রী। তারা দুজন একই গ্রামের পাশাপাশি বাড়ি।

সুমির বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, গত এক বছর আগে একই গ্রামের লোকমান মাতব্বরের ছেলে ইতালি প্রবাসী শাকিল মাতুব্বরের সাথে সুমি আক্তারে বিবাহ দেই। বিবাহর পর থেকে শাকিল বিদেশে যাওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমি পেনসনের দশ লাখ টাকা উত্তোলন করে জামাই শাকিল এর হাতে দেই। এরপর গত চার মাস আগে শাকিল ইতালি যায়। ইতালি যেতে তার মোট ১৮ লাখ টাকা খরচ হয়। বাকি আরো পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে এবং তাকে দিতে হবে। এই নিয়ে আমার মেয়েকে তারা প্রায়ই মাঝে মধ্যে মারধর করে। গতকাল রবিবার রাত দশটার সময় শাকিল এর মা তার দুই ভাই রাশেদ ও হান্নান মানসিক নির্যাতন ও মারধর করে আমার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এরপর সুমি আমার বাড়ি এসে তার স্বামী সাকিলের সাথে মোবাইলে ঝগড়া করে । তারপর রাত অনুমানিক ৩টার সময় ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

বড় বোন শারমিন আক্তার বলেন, আমার ছোট বোন সবার আদরের ছিলেন। তাকে প্রেমের ফাদে ফেলে আমাদের প্রতিবেশী যুবক শাকিল বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে আমার বোনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। বিয়ের একটি বছর পার হতে না হতেই আজ আমার বোনকে কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হলো। যারা আমার বোনের আত্মহত্যার জন্য দায়ী আমরা তাদের বিচার দাবী করছি।
ভাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত প্রদ্যুৎ সরকার জানান, নিহত সুমির বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানা একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। লাশ ময়দা তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য